দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনে ড্রোন যুদ্ধের দক্ষতা বাড়াতে এবং সামরিক ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ড্রোন প্রতিযোগিতা। ‘ওয়াইল্ড ড্রোনস’ নামের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় দেশটির ১৯টি শীর্ষ সামরিক ড্রোন ইউনিট ও ফ্রন্টলাইনে ব্যবহৃত ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। পশ্চিম ইউক্রেনের স্পা শহর ত্রুস্কাভেৎসের বাইরে খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
প্রতিযোগিতায় ইউক্রেনের দক্ষ ড্রোন পাইলটরা একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কৌশলগত চ্যালেঞ্জে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল আকাশে উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস, নির্ভুল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণাত্মক কৌশলের প্রদর্শনী। এক পর্যায়ে পি১-সান নামের একটি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন আকাশে থাকা আরেকটি ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত বেলুনের দড়ি কেটে দিলে উপস্থিত সেনাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য শুধু বিনোদন নয়; বরং ফ্রন্টলাইনে ব্যবহৃত নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেওয়া, ইউনিটগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আরও দক্ষ অপারেটর তৈরি করা। আয়োজকদের একজন এবং ৯৩তম মেকানাইজড ব্রিগেডের ব্ল্যাক রেভেন ড্রোন ব্যাটালিয়নের সার্জেন্ট মেজর ‘গ্রে’ বলেন, এটি বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের জন্য নতুন কিছু শেখা ও প্রযুক্তি নির্মাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন এখন অন্যতম প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। ভিডিও গেম কনসোলের মতো কন্ট্রোলার ব্যবহার করে তরুণ অপারেটররা দূর থেকে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন পরিচালনা করছেন, যা রুশ সেনাদের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেন ইতোমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ‘গেমিফিকেশন’ কৌশল চালু করেছে। গত বছর দেশটি ড্রোন হামলায় নিশ্চিতভাবে শত্রু নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে। এসব পয়েন্ট ব্যবহার করে সামরিক ইউনিটগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে নতুন ড্রোন ও সরঞ্জাম কিনতে পারে। কর্মকর্তাদের দাবি, এতে সৈন্যদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও উৎসাহ বাড়ছে এবং দক্ষ ইউনিটগুলো দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ইউনিটগুলোকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে ইউক্রেনীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কাইফল নির্মিত তিনটি করে ‘ভ্যাম্পায়ার’ ড্রোন, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানান, তারা প্রতিদিন ১০ হাজারের বেশি ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে এবং ফ্রন্টলাইন থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়মিত প্রযুক্তি উন্নত করা হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় বাহিনীর সদস্যরা জানান, এসব ড্রোন শুধু হামলার কাজেই নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে সামনের সারিতে মানবসম্পৃক্ততা কমানো যায়।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/